(নিউ ইয়র্ক) - হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আজকে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রাক্তন আমির গোলাম আজমের বিচার তীব্র পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত মান বজায় রাখতে পারেনি।

২০১০ সালের মার্চে ১৯৭১ সালে সঙ্ঘটিত যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজমের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এরমধ্যে মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে য়ড়যন্ত্র, পরিকল্পা, উসকানি, সহযোহিতা, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।

২০১৩ এর জুলাই ১৫ জুলাই প্রদত্ত রায়ে গোলাম আজমকে প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং যাবতজীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বয়সের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। ১২ আগস্ট প্রসেকিউশন আজমের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে।

এশিয়ার পরিচালক ব্র্যাড এডামস বলেন, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থে সঙ্ঘটিত অপরাধের অর্থবহ বিচার দাবি করে আসছে। কিন্তু এই বিচার ন্যায্য এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে।” “আইন এবং বিচার প্রক্রিয়াতে থাকা সমস্যা সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হুঁশিয়ারি সরকার অবজ্ঞা করে। সরকার তার প্রয়োজনমত দণ্ডাদেশ পেয়েছে কিন্তু গোলাম আজম আসলেই দোষী কিনা তা নিরপেক্ষ ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

গোলাম আজমের মামলায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচরে উদ্বেগের কারণ:

•   বিচারকরা প্রসেকিউশনের পক্ষ হয়ে অনৈতিকভাবে একটি তদন্ত করেছে।

•   প্রসেকিউটর এবং বিচারকদের মধ্যে অশুভ আঁতাত এবং নিরপেক্ষতার অভাব ছিল।

•   অভিযুক্তের পক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষা দেয়া হয়নি।

•   ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ পরিবর্তন করা হয়েছিল।

এবং,

•   পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় সন্দেহাতীতভাবে আজমের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়নি।

গুরুতর সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে যে বিচারকরা প্রসেকিউশনের মামলার দুর্বলতার প্রেক্ষিতে নিজেরাই তদন্ত করে। বাংলাদেশে বিচারকরা শুধুমাত্র সেসব সাক্ষ্য প্রমাণই বিবেচনায় আনতে পারে যা মামলার দুই পক্ষ তাদের সামনে উপস্থাপন করে। অভিযুক্তের আইনজীবীরা বিচারকদের এই তদন্তের কথা জানতো না। তাই তারা এ বিষয়ে কোন আপত্তি বা মন্তব্য করতে পারেনি। এই বিষয়টি আইসিসিপিয়ার-এর ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র আইসিসিপিয়ার-কে অনুমোদন করেছে।

তদন্তের এই ঘটনাটি ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতাকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দি ইকোনোমিস্টে স্কাইপ এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার বিভাগ, প্রসেকিউশন এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে অশুভ আঁতাত প্রকাশিত হয়। সে সম্পর্কিত পক্ষপাত বিষয়ে অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোন জবাব দেয়নি। প্রকাশিত অনেক আলাপ ছিল আজমের বিচার সম্পর্কিত। সেই আলাপে বিচারকরা মামলা পরিচালনার পদ্ধতি প্রসেকিউটরদের বুঝিয়ে দেয় এবং কোন সাক্ষীকে ডাকতে হবে, কীভাবে প্রশ্ন করতে হবে সে সম্পর্কেও বলেন। কথোপকথন থেকে বোঝা যায় যে বিচারকরা প্রসেকিউটরদের আজমের মামলার ব্যাপারে উপদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করছিল।

তাছাড়া, আজমের মামলায় অভিযুক্তের পক্ষের সাক্ষীদের হয়রানি করা হয়েছে এবং তার আইনজীবীদের অফিসে পুলিশ হানা দেয়। অভিযুক্তের পক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগের উপর ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত করেনি বা কোন কার্যকর সমাধান দেয়নি।

“আজমের মামলায় বহুধরণের সমস্যা রয়েছে যা থেকে এমনটাই বেরিয়ে আসে যে বিচারকদের প্রসেকিউশনের প্রতি পক্ষপাত ছিল। তাছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল”, বলেন এডামস। “এই সব অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা সত্য জানার অধিকার রাখে যা শুধুমাত্র ন্যায্য এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানা সম্ভব।”