আত্মীয়রা পরিবারের নিখোঁজ হওয়া সদস্যদের ছবি ধরে আছেন জোরপূর্বক নিখোঁজ, হত্যা এবং অপহরণ বন্ধের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, ঢাকা, বাংলাদেশ, ৩০শে অগাস্ট, ২০১৪

২০১৪ জাঁকির হোসেন চৌধুরী/জুমা ওয়ার/আলামি

(নিউ ইয়র্ক) - বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি, ২০১৩ সাল থেকে বিরোধীদলের কর্মীসহ কয়েকশ ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আটক করেছে এবং তাদের গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আজ এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অতিসত্বর জোরপূর্বক নিখোঁজের এ ধারা বন্ধ করা, এবং এ  অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা, নিখোঁজের পরিবারদের জবাব দেয়া এবং এ ধরনের গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দোষী নিরাপত্তা বাহিনীদের বিচারের সম্মুখীন করা।

 ‘“তিনি আমাদের কাছে নেই”:বাংলাদেশে গোপনে আটক এবং জোরপূর্বক নিখোঁজ” শিরোনামের ৮০ পাতার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে’ শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই কমপক্ষে ৯০ জন ব্যাক্তি জোরপূর্বক নিখোঁজের শিকার হয়েছেন। যদিও গোপনে আটকে রাখার কিছু সপ্তাহ অথবা মাসের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির করা হয়, কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ  ২১টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করে যেখানে আটককৃতদের পরে হত্যা করা হয় এবং অন্য ৯ জনের অবস্থান এখনও অজানা। আটককৃত ৯০ জনের মধ্যে বিরোধীদলের বিশিষ্ট নেতাদের তিনজন পুত্র রয়েছেন যাদের ২০১৬ সালের অগাস্ট মাসে কয়েক সপ্তাহের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়; তাদের একজনকে গোপনে ছয় মাস আটকে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয় এবং অন্য দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে, ৪৮টি নিখোঁজের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে তাদের উপর নির্যাতন ও বাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।

“নিখোঁজের ঘটনাগুলোকে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরও সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পরোয়া না করে এ ভয়ংকর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে,” বলেছেন এশিয়া পরিচালক, ব্যাড অ্যাডামস। “বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে মানুষদের আটক করতে, তারা দোষী না নিরাপরাধী তা বিচার  করতে  এবং  তাদের শাস্তি, এমনকি তাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে কিনা তা নির্ধারণ করতে।”

বাংলাদেশঃ জোরপূর্বক নিখোঁজ ও গোপনে আটক বন্ধ করুন

বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি, ২০১৩ সাল থেকে বিরোধীদলের কর্মীসহ কয়েকশ ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আটক করেছে এবং তাদের গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আজ এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অতিসত্বর জোরপূর্বক নিখোঁজের এ ধারা বন্ধ করা, এবং এ  অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা, নিখোঁজের পরিবারদের জবাব দেয়া এবং এ ধরনের গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দোষী নিরাপত্তা বাহিনীদের বিচারের সম্মুখীন করা।

এ রিপোর্টে বিরোধীদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১৯ জন কর্মীর নিখোঁজের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে,  দুই সপ্তাহব্যাপী আট টি ভিন্ন ঘটনায়, বাংলাদেশ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকা সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৯ জন ব্যাক্তিকে তুলে নিয়ে যায়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করতে পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১০০ জন মানুষের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছে। পুলিশ অভিযোগের বিবরণ এবং আইনি কাগজপত্র এ রিপোর্টের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাগুলো সম্পর্কে তাদের মতামত জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরিবারের সদস্যরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন যে বেশীর ভাগ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে  র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব) অথবা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দ্বারা যাদের নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯ জন বিরোধীদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন যে- আটজনকে  র‌্যাব, ছয়জনকে ডিবি পুলিশ এবং বাকিদের একটি অজানা নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।

রুহুল আমিন চৌধুরী যার ছেলে, আদনান চৌধুরীকে,  র‌্যাব ২০১৩ সালের ৫ ই ডিসেম্বর তার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়।  তিনি বলেন র‌্যাবের উপর তিনি আস্থা রেখেছিলেন যে তারা তার ছেলেকে পরের দিন সকালে ছেড়ে দেবে। “তারা বলেছিলেন, ‘আমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছি এবং আমরাই তাকে ফেরত দিয়ে যাব।’”  তিনি আরও বলেন। “তারা আমাদের ধোঁকা দিয়েছেন”।

র‌্যাবের  একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম সুমনের পরিবারের সদস্যদের বলেছেন যে সুমন,স্থানীয় বিএনপির একজন অতি পরিচিত নেতা যিনি ২০১৩ সালের ৫ ই ডিসেম্বর নিখোঁজ হন, এবং আরও পাঁচজন লোক তার হেফাজতে ছিলেন কিন্তু যখন তিনি আটককৃতদের হত্যা করার নির্দেশ অমান্য করেন, তখন র‌্যাবের কর্মকর্তারা তাদের  সরিয়ে নেন। তিনি অনুমান করছেন যে আটককৃত সে ছয়জনকে তখনই হত্যা করা হয়।

আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এ গ্রেফতারের ঘটনাগুলোকে বরাবরই অস্বীকার করেছেন, সেইসাথে সরকারী কর্মকর্তারা প্রায়ই  তাদের সমর্থন জানিয়েছেন এই বলে যে  নিখোঁজ হওয়া ব্যাক্তিরা স্বেচ্ছায় গোপনে লুকিয়ে আছেন। পুলিশ তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ দ্বারা তাদের আত্মীয়দের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি দেয়নি।

জোরপূর্বক নিখোঁজ ছাড়াও, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার গোপন হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মৃত্যুর হার বেড়ে যাবার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে ২৪ বছর বয়সী জামাত-ই-ইসলামীর কর্মী, শহিদ আল মাহমুদের সাথে। তাকে ২০১৬ সালের  ১৩ই  জুন  “[ঘর] থেকে টেনে নিয়ে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়,”  শহিদের বাবা  রজব আলী, হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে এ বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে গ্রেফতারের সময় পুলিশ অফিসাররা উপস্থিত ছিল, যদিও পরে তারা মাহমুদকে আটকে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে। দুই সপ্তাহ পরে, ১লা জুলাই, পুলিশ বলেছে যে অপরাধীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধের পর শহিদের লাশ পাওয়া যায়। শহিদের বাবা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন যে পুলিশ মিথ্যা কথা বলেছে: “পুলিশ আমার ছেলেকে অপহরণ করে এবং তার হত্যা গ্রহণযোগ্য করার জন্য ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজায়।” 

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসবার পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে “শুন্য সহনশীলতার” প্রতিশ্রুতি করে, কিন্তু বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা এখনও ঘটছে। মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে সর্বমোট ৩২০ টি  নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে রয়েছে সন্দেহভাজন অপরাধী, সেনাবাহিনী এবং বিরোধীদলের সদস্যবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দ্বারা জোরপূর্বক নিখোঁজ স্বাধীনতা খর্ব করে, স্বাধীনতা খর্ব অস্বীকার করা কিংবা তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করা অথবা তাদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত না করার ফলে তারা আইনের সুরক্ষার বাহিরে অবস্থান করে।

এমনকি সরকার এসব অভিযোগগুলো অস্বীকার করার প্রয়োজন মনে করছে না, তার পরিবর্তে নীরব থাকছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর থেকেও একই প্রত্যাশা করছে। এই নীরবতা ভঙ্গ করা প্রয়োজন।

Brad Adams

Asia Director

বাংলাদেশ সরকারের উচিত স্বাধীন ও  কার্যকর  তদন্ত  পরিচালনার  জন্য  মানবাধিকার  হাই  কমিশনারকে বাংলাদেশে  ভ্রমণের  জন্য  আমন্ত্রণ  জানানো  এবং   তারা  যাতে  তদন্ত  পরিচালনা  করতে  পারে  এবং  সেইসাথে  বিচারজবাবদিহিতা  এবং  নিরাপত্তা  বাহিনীকে  স্বাধীনভাবে  কাজ  করার  সুযোগ  দিয়ে  তা পুনর্গঠনের  যথাযথ  প্রস্তাব  উপস্থাপন  করতে  পারেসেসব সুনিশ্চিত  করা।  বাংলাদেশ সরকারের আরও উচিত সংশ্লিষ্ট  জাতিসঙ্ঘের  বিশেষ  কার্যসম্পাদকনির্বিচার  ও  বিচার  বহির্ভূত  হত্যাকাণ্ড  বিষয়ক  বিশেষ  দূতজোরপূর্বক  ও  অবৈধভাবে  নিখোঁজের  উপর  কার্যরত  সংস্থার বিশেষ  দূতদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান এবং তারা যাতে সকল স্থান ও মানুষদের সাথে বিনা বাঁধায় দেখা করতে পারে তার অনুমতি গ্রাহ্য করা।

অ্যাডামস বলেছেন “বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার, মানুষের জীবন এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রতি পরোয়া না করাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করেছে। এমনকি সরকার এসব অভিযোগগুলো অস্বীকার করার প্রয়োজন মনে করছে না, তার পরিবর্তে নীরব থাকছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর থেকেও একই প্রত্যাশা করছে। এই নীরবতা ভঙ্গ করা প্রয়োজন।”  

গোপনে আটক এবং হত্যা   

“আমার ছেলে যখন  জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসছিল, তখন কিছু লোক মোটরসাইকেলে চড়ে আমার ছেলের কাছে এসে দাঁড়ালো। আমার ছেলে তার নাম বলার পর তারা তাকে হাতকড়া পরিয়ে দিল এবং বন্দুকের মুখে  তাকে টেনে  মোটরসাইকেলে ওঠালো। কিছু স্থানীয় লোক তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তারা তাদের বন্দুক উঁচিয়ে তাদের কাজে বাঁধা না দেবার আদেশ করে এবং বলে যে তারা তাদের ‘প্রশাসনিক দায়িত্ব' পালন করছে।”’  

-নুর ইসলাম, আবু জার গাফারির পিতা, আবুকে ২০১৬ সালের ১৮ই মার্চ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ১৩ই এপ্রিল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

“মধ্যরাতের পরে, দুইজন লোক বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে আমাদের ঘরের চত্বরে প্রবেশ করে এবং শহিদের নাম ধরে এমনভাবে ডাকে যেন তারা তার রাজনৈতিক সহকর্মী। আমার স্ত্রী এবং আমি উঠে দরজার কাছে গিয়েছি এবং বেসামরিক পোশাক পরিহিত দুই জনের একজন একটি বন্দুক আমাদের দিকে তাক করে রাখে। তারা শহিদকে কাপড় বদলানোর অনুমতি দেয়। তারপর তাকে টেনে নিয়ে যায় এবং কালো একটি মাইক্রোবাসে নিয়ে তোলে। সেখানে আরও কিছু লোক উপস্থিত ছিল, তাদের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।”

-রজব আলী, শহিদ আল মাহমুদের পিতা, ২০১৬ সালের ১৩ই জুন, শহিদকে তুলে নিয়ে যাবার একদিন পর  তার লাশ পাওয়া যায়

নিখোঁজ অব্যাহত

“আমরা দ্রুত আমাদের এপার্টমেন্টে চলে গেলাম। সেখানকার একজন প্রহরী আমাদের বলেছিল যে সাধারন পোশাক পরিহিত তিনজন লোক আমাদের এপার্টমেন্ট ঢুকে আমার ভাইকে মধ্যরাতের দিকে তুলে নিয়ে যায়। যখন প্রহরী তাদের থামানোর চেষ্টা করে, তারা নিজেরদের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য বলে পরিচয় দেয়।” 

-মনিরুল হোসেন অপু, মোয়াজ্জেম হোসেন টিপুর ভাই, টিপু ২০১৬ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ 

“যখন দরজা খোলা হয়েছে, তখন লোকগুলো আমার ভাবিকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার স্বামী কোথায়?’ আমার ভাই তখন দরজার কাছে আসল এবং লোকগুলো তাকে বলল, ‘আপনাকে আমাদের সাথে আসতে হবে।’ আমার ভাই জিজ্ঞেস করল, 'আমি কি আপনারদের পরিচয় পেতে পারি?' আপনারা কোন বাহিনী থেকে এসেছেন? আপনারা কি র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি?' তারা নিজেদের পরিচয় দেয়নি। তিনি কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছেন। তোদের পরনে কোন সামরিক পোশাক এবং কোন গ্রেফতার পরোয়ানা ছিল না। তারা বলেছিল, 'আমাদের সাথে আসুন।' আমার ভাই তখন বলেছেন, 'আমি একজন আইনজীবী এবং আমার তা জানা প্রয়োজন।' তখন তারা আমার ভাইকে জবাব দিল, 'আমরা আপনাকে তৈরি হওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট দেব। তৈরি হয়ে আমাদের সাথে আসুন।' ...... আমি আমার ভাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের একজনের হাত ধরেছিলাম। লোকটি আমার হাত সরিয়ে আমার ভাইকে ধরেছিল। আমরা তার পেছনে দৌড়াতে শুরু করলাম। আমরা দ্বিধান্বিত ছিলাম। তাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঢুকানো হল। তারপর তারা চলে গেল।”

- তাহেরা তাসনিম, মীর আহমেদ বিন কাসেমের বোন, ২০১৬ সালের ৯ই অগাস্ট থেকে নিখোঁজ

“হঠাৎ করে আমরা দেখলাম একটি গাড়ী আমাদের দিকে আসছে। সেখানে একাধিক গাড়ী ছিল, কিন্তু আমি সঠিক সংখ্যাটি জানিনা। কালো পোশাক পরিহিত কিছু লোক গাড়ী থেকে বের হয়ে আসল। তাদের কাছে অস্ত্র ছিল। গাড়ীগুলির বাতি জ্বালানো ছিল, তাই আমি তাদের এবং তাদের পোশাকের রং দেখতে পেরেছিলাম। সেখানে একটি গাড়ীতে র‌্যাব -১ লিখা ছিল। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে তারা র‌্যাব ছিল কারন আমি তাদের পোশাক এবং গাড়ীতে র‌্যাব -১ লিখা দেখেছিলাম।”

- ২০১৩ সালের ৪ই ডিসেম্বর বসুন্ধরা থেকে ছয়জন লোকের নিখোঁজের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী

“আমি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে গেলাম। কর্তব্যরত অফিসার আমাকে বলেছিল যে পুলিশ র‌্যাব অথবা অন্য কোন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করবেনা। আমাকে বলা হয়েছিল যে যদি আমার একটি অভিযোগ দায়ের করতে চাই তাহলে আমাকে বলতে হবে যে আমার ছেলে হারিয়ে গেছে।”

- সামসুদ্দিন, নিজামউদ্দিন মুন্নার পিতা, ২০১৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ

“দরজা খোলার সাথেসাথে তারা জিজ্ঞেস করল যে সে পিনটু কিনা। সে বলেছিল, 'হ্যাঁ, আমিই পিনটু।' তখন তাদের দুইজন পিনটুকে ধরে ফেলেছিল... পিনটু তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল, 'আমরা প্রশাসন থেকে এসেছি।'

পিনটু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিল, এবং তখন তারা বলেছিল, 'এটা কোন সমস্যা না। আপনি আমাদের সাথে নিরাপদে থাকবেন।' আমার স্বামী কোন বাঁধা দেননি।”

-তারান্নুম নাহাস, সেলিম রেজা পিনটুর স্ত্রী, ২০১৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ