২০১৪  সালের ৪ঠা ডিসেম্বর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশিরা নিখোঁজ আত্মীয়দের ছবি ধরে আছে। ন্যায় বিচার পাবার আশায় শত শত মানুষ প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করে। 

© 2018 মুনিরউজ্জামান জেএমএএন / এএফপি / গ্যাটি ছবি

(নিউ ইয়র্ক)- ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সমালোচনায় বাংলাদেশ সহিংস বিক্ষোভ প্রকাশ করে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১৯ এর বিশ্ব রিপোর্টে আজ এ কথা জানিয়েছে। এর দায়ভার গ্রহণ করার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতা, নির্যাতন, জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড চালিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিরোধদলীয় সদস্য, সাংবাদিক, বেসরকারী জনগোষ্ঠী এবং ছাত্ররা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০১৮ সালের নির্বাচনে, জালিয়াতির মত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল সেইসাথে বিরোধীদলীয় সদস্যদের উপর হামলা, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রতিনিয়ত আগমন মানবতাবাদী ও সরকারী সাহায্য সংস্থাগুলির উপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করে। সরকার নির্দিষ্ট অবকাঠামো উন্নতিতে বিশেষ করে আশ্রয় এবং শিক্ষা গ্রহণে বাঁধা দেয় এই বলে যে এ শরণার্থী শিবিরগুলি ক্ষণস্থায়ী, এবং শরণার্থী সমস্যার সমাধান হচ্ছে তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া যেখানে তাদের জীবন এবং স্বাধীনতা গুরুতর ঝুঁকির সম্মুখীন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, “"আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হতে পারে, কিন্তু তা করার জন্য, সরকার স্বাধীনভাবে মত প্রকাশকের অধিকার খর্ব করে এবং হাজার হাজার বিরোধী সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা  মামলা দায়ের করে"। "এক কথায় বলা যায় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের নাগরিকদের উপর কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য তাদের নিজেরদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে ইচ্ছুক।"

"৬৭৪- পাতার বিশ্ব রিপোর্ট ২০১৯ এর ২৯ তম সংস্করণে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১০০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার চর্চা পর্যালোচনা করেছে। নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ তার প্রারম্ভিক প্রবন্ধে বলেন যে "অনেক দেশে নেতাদের দ্বারা ছড়িয়ে দেয়া ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে জনতা একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। অধিকার সচেতন সরকারের নতুন জোট প্রায়ই সাধারণ নাগরিক ও জনগোষ্ঠীদের সাথে অংশগ্রহন করে যা স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সাফল্য  মানবাধিকার রক্ষা করার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে - এমনকি অন্ধকার সময়েও তারা কখনও নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় না।"

সরকার 'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' ঘোষণা করে এবং তারই প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ১০০ জনের বেশী মানুষকে হত্যা করে সেইসাথে হাজার হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। ছাত্রলীগ সমর্থকেরা প্রতিবাদকারী ছাত্রদের মারধর করে এবং পুলিশ হেফাজতে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্বাচনের আগে সরকার শত শত রাজনৈতিক বিরোধী সমর্থকদের ঠুনকো অভিযোগে জেলে আটকে রাখে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন যা পূর্ববর্তী ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের পরিবর্তে প্রণয়ন করা হয়, তা সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমলোচনাকারীদের গ্রেফতারের জন্য ব্যবহার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন ফটোগ্রাফার-কর্মী শহীদুল আলম, তাকে আগস্ট মাসে আল জাজিরা টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে এক সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার লংঘনের সমালোচনা করার কারনে ১০৭ দিন আটকে রাখা হয়।

কর্তৃপক্ষ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও জোরপূর্বক নিখোঁজসহ গুরুতর অপরাধের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করতে ব্যর্থ হয়েছে।

যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, গৃহবধূ নির্যাতন, এবং অ্যাসিড আক্রমণের ক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষার জন্য সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ নির্মূল করার সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, ১৮ বছরের আগে মেয়েদের "বিশেষ" পরিস্থিতিতে বিয়ে দেয়ার অনুমতি গ্রাহ্য করার একটি আইন প্রণয়ন করেছে।

রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের পাঁচ বছর পর, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে বহিরাগত আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দেয়। এ ভবন ধ্বসে ১১০০ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে।

 অ্যাডামস বলেন, “২০১৮ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রথা সরকারের যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাবার তীব্র লালসার ছবি তুলে ধরে। অ্যাডামস বলেছেন, “"সরকারকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, আইনের শাসন, এবং নাগরিক সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব উপলিব্ধি করতে হবে।"