এই বছর বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পরে নির্বাচনী জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্তের আবেদন উপেক্ষা করে।

গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের দায়মুক্তি এই বছরও ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। সরকারের সমালোচনার ঘটনাগুলোতে যে কঠোর পদক্ষেপগুলো নেয়া হয় সেগুলোতে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদন্ড লঙ্ঘন চলমান রেখেছে।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আগত প্রায় দশ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বাধ্য না করার তার যে অঙ্গীকার সেটি প্রতিপালন করেছে। তবে অবকাঠামোর উন্নয়নে বাধা, জনবসতিহীন একটি দ্বীপে শরণার্থীদের স্থানান্তরের নিরন্তর হুমকি এবং শরণার্থী শিবিরে চলাফেরার স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা প্রদানের ফলে শরণার্থী শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এই বছর পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা মজুরির বৃদ্ধির দাবীতে ধর্মঘট পালন করে। এই ধর্মঘটের পর মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ৭৫০০ শ্রমিককে চাকুরি থেকে ছাঁটাই করা হয় যেটা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে শ্রমিকদের ওপর কঠোর হওয়ার সবচেয়ে বড় ঘটনা

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের বিবাহের সনদে তাদের কুমারিত্বের বিষয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণার বিধান হাই কোর্ট বাতিল করার পর বাংলাদেশ লৈঙ্গিক সমতার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দৃশ্যপট

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-এর জাতীয় নির্বাচন বিরোধীদের ওপর আক্রমণ, নির্বিচার গ্রেফতার এবং ভোটারদের হুমকি প্রদানসহ অন্যান্য নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯৬ শতাংশ সংসদীয় আসনে জয় লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচন কমিশন অতি দ্রুততার সাথে নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ বলে ঘোষণা প্রদান করে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তের পরিবর্তে সাংবাদিকদের তাদের প্রতিবেদনের জন্য গ্রেফতার করে

নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাজ্যের আহ্বান সরকার উপেক্ষা করে।

এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করাকালীন বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি দুর্নীতি মামলায় দুই বছর ধরে কারান্তরীন রয়েছেন।

মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা

২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভের পরও সমালোচক, সাংবাদিক, ছাত্র এবং অধিকারকর্মীদের কন্ঠরোধ করা হ্রাস পায়নি। উপরন্তু, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেন কর্তৃপক্ষের নিপীড়নের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাংবাদিকরা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ (self-censor) অথবা গ্রেফতারের ঝুঁকি নেয়ার মতো চাপের মুখে পড়েন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের মাধ্যমে প্রায়ই অপব্যবহৃত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনকে প্রতিস্থাপন করা হয়, নতুন আইনে বেশ কিছু কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলো সরকারের সমালোচনার দন্ড দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন, বলেছে যে আইনটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুসারে আইনটি প্রস্তুতের জন্য বারবার আহ্বান করা সত্ত্বেও সরকার তা করতে অস্বীকৃতি জানায়।

কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেন্সরশীপ বৃদ্ধি করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার “পর্নগ্রাফি বিরোধী অভিযানের” নামে প্রায় ২০,০০০ ওয়েবসাইট ব্লক করে, কিন্তু এই ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় ব্লগও রয়েছে। মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিষয়ে কিছু অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল আল জাজিরার ইংরেজি নিউজ ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়

জবাবদিহিতার অভাব

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), অথবা পুলিশ, সুনির্দিষ্টভাবে বললে পুলিশে গোয়েন্দা বিভাগসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত জোরপূর্বক অন্তর্ধান, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, নির্যাতন এবং আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরও সরকার অস্বীকার করে। বন্দুকযুদ্ধের সময় বা ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে দাবী করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার দীর্ঘদিনের পন্থাটি ধরে রেখেছে। মাদকবিরোধী অভিযানসহ অন্যান্য ঘটনায় কথিত ক্রসফায়ারে শতাধিক ব্যক্তি মারা যায়।

শরণার্থী

বাংলাদেশ ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় ও মানবিক সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তবে শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত যাবার জন্য সরকার চাপ বৃদ্ধি করার কারণে শরণার্থী শিবিরের অবস্থার অবনতি হয়েছে। জাতি সংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের মতে, সংঘাত ও শরণার্থী শিবিরের মানবেতর অবস্থার কারণে সৃষ্ট মানসিক সমস্যা সমাধানের জন্য বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের সাইকো-সোসাল সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু সেই তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

আগস্টে বাংলাদেশ শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মিয়ানমারে যেই নির্যাতন ও দমনের মুখে শরণার্থীরা পালিয়ে এসেছিল, আবারও সেই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার ভয়ে তারা বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে।

শিবিরগুলো অস্থায়ী বলে জোর দিয়ে বাংলাদেশ সরকার কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুনির্দিষ্টভাবে বললে আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাবিষয়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে বাধা দিয়েছে। শরণার্থী শিবিরের জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই শিশু হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের প্রথাগত ও স্বীকৃত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বাধা দিয়েছে। শিক্ষার জন্য মরিয়া রোহিঙ্গা শিশুরা যখন ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশের স্কুলে ভর্তি হলো, তখন সরকার তাদের ওপর হামলে পড়ল এবং ছাত্রদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করল।

সেপ্টেম্বর মাসে সরকার শরণার্থীদের ইন্টারনেট এবং অনলাইন যোগাযোগব্যবস্থাকে সীমিত করেপলি মাটি জমে সৃষ্টি হওয়া ভাসানচরের বসবাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বারংবার শরণার্থীদের চরটিতে স্থানান্তরের হুমকি দিয়েছে।

নভেম্বর মাসে সরকার কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের চতুর্দিকে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপটি যেমন অপ্রয়োজনীয় তেমনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ আর তাই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

শ্রমিক অধিকার

২০১৯ সালের শুরুর দিকে নূন্যতম মজুরি পরিবর্তনের দাবিতে প্রায় ৫০,০০০ গার্মেন্টস শ্রমিক জোরালো ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে, এতে একজন শ্রমিক নিহত ও ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়। কমপক্ষে ৭,৫০০ জন শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এই শ্রমিকদের অনেককেই অন্যান্য কারখানায় কাজ পাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন ও ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত বাংলাদেশ একর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি একটি জাতীয় মনিটরিং পদ্ধতি রেডিমেড সাসটেইনিবিলিটি কাউন্সিলে রূপান্তরিত হয়।

আদিবাসী অধিকার

অধিকারকর্মীরা এই বছরও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবি করেছে। শান্তি চুক্তির ২০ বছর পরেও এই অঞ্চলটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং আদিবাসী অধিকারকর্মীদের গ্রেফতার, জোরপূর্বক অন্তর্ধান ও নির্যাতনের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

৯ এপ্রিল মাইকেল চাকমা নামক একজন আদিবাসী অধিকারকর্মী ঢাকায় যাবার পথে নিখোঁজ হন। ২১ মে হাই কোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলে। এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়া হয়নি।

নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার

১৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি তার মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দায়েরের পর তাকে আগুনে দগ্ধ করা হয়। রাফির ‍মৃত্যুর পর যৌন নিপীড়ন বিষয়ক বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুনের সংস্কার ও যথাযথ প্রয়োগের জন্য দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও দাবী উত্থাপিত হয়। নারী ও কন্যা শিশুর সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে এবং যৌন হয়রানি বিষয়ে আইন আজও পাশ করতে পারেনি।

সারাবিশ্বে বাল্যবিবাহের উচ্চহারের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে বন্ধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন, তবে এই বছর এই বিষয়ে অর্থবহ অগ্রগতি ছিল নগন্য। উপরন্তু “বিশেষ ক্ষেত্রে” মা-বাবা ও আদালতের অনুমতি নিয়ে বাল্যবিবাহ প্রদানের একটি বিশেষ বিধান কার্যকর রয়েছে।

যৌনভ্যাস ও লৈঙ্গিক পরিচিতি

২০১৬ সালে দুইজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুর পর থেকে যৌনভ্যাস ও লৈঙ্গিক সংখ্যালঘুরা চাপ ও হুমকির মধ্যে রয়েছে। সরকার হিজড়াদের অধিকার রক্ষার নীতিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রভাবক

বিশেষত নির্বাচনী জালিয়াতি বিষয়ক বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন, স্বাধীন মতামত প্রদানের জন্য নির্যাতন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের চর্চা এবং জোরপূর্বক অন্তর্ধান ও গুপ্তহত্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা বাংলাদেশ সরকার কখনো উপেক্ষা আবার কখনো প্রত্যাখ্যান করেছে।

নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থনের প্রায় ২০ বছর পর বাংলাদেশ তার চর্চা বিষয়ে জাতি সংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটির পর্যালোচনায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছে। জাতি সংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটি যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে জোরপূর্বক অন্তর্ধান হবার ঘটনা বন্ধে চাপ প্রয়োগ করল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের ঘটনা বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযোগমূলক প্রতিবেদন বিষয়ে জিজ্ঞেস করল, তখন বাংলাদেশ কঠোরভাবে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করল।

মার্চে বাংলাদেশ মিয়ানমারের জাতিগত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রথম মিশনকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর বাংলাদেশ সফরের পর বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের অধীন “অস্ত্র ছাড়া বাকি সব” (“Everything but Arms”) কর্ম-পরিকল্পনার অধীনে শ্রম অধিকারের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে জোর দিয়েছেন। সেপ্টেম্বেরে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রসংশা করেছে এবং রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা লাভের পূর্ণ সুযোগ প্রদানের নিশ্চয়তা; ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন যোগাযোগ ও চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার; এবং শরণার্থী শিবিরে কর্মরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক শরণার্থীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার সকল মানদন্ড মেনে চলার আহ্বান জানায়।

রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নির্যাতনসহ বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে চীন বাধাগ্রস্ত করেছে, এমনকি শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার ব্যর্থ হয়েছে বলে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে।