তানজানিয়াতে ১৪ বছরের শ্যারনের বিবাহে তার ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলি ফুরিয়ে গেল: "আমার স্বপ্ন ছিল সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশুনা করা৷ আজ পর্যন্ত, আমি যখনই খবর দেখি বা রেডিওতে খবর শুনি বা কোনো কাউকে খবরের কাগজ পড়তে দেখি, তখনই এটি আমাকে ভীষণ পীড়া দেয় কেননা আমার মনে হয় আমি যদি এটি করতে পারতাম৷" 

সারা বিশ্বজুড়ে বিবাহকে ভালবাসা, সুখ ও নিরাপত্তার আদর্শ রূপ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ কিন্তু শ্যারন বা অন্যান্য মেয়েদের কাছে, বিয়ে হয়ে যাওয়ার বিষয়টি হল ওদের কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ঘটনা যা ঘটতে পারে৷ উন্নয়নশীল বিশ্বে মোটামুটিভাবে প্রতি তিনজন মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায়, আর প্রতি নয়টি মেয়ের মধ্যে একজনের তার ১৫ বছর হবার পূর্বেই বিয়ে হয়ে যায়৷ 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর পক্ষ থেকে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মালয়, নেপাল, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, ইয়েমেন এবং জিম্বাবোয়েতে যে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে যে বাল্যকালে বিবাহের ফলে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে-প্রায়ক্ষেত্রেই মানবাধিকারের যে এই ব্যাপ্তি সেটি একজন মেয়ে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে নি বা বুঝতে অসমর্থ হয়েছে৷ শিক্ষা শেষ হবার পূর্বেই বিদ্যালয় পরিত্যাগ করার ফলাফল হলো বাল্য বয়সেই বিয়ে হয়ে যাওয়া৷ অন্যান্য যে প্রভাবগুলি দেখা যায় সেগুলি হলো বিবাহজনিত ধর্ষণ, পারিবারিক হিংসার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া, ভালো সৃজনশীল কোনো কাজ করতে না পারা, শ্রমের মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়ে শোষিত হওয়া, এইচআইভি (ঐওঠ) সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া এবং অল্প বয়সে মাতৃত্বের ফলে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেওয়া৷ 

বর্তমানে, সারা বিশ্বজুড়ে বাল্য বিবাহের প্রতি প্রচন্ডরকমের নজর দেওয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং মালাউইয়ের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্ডা সহ সরকার বা সরকারের বাইরে থাকা প্রমুখ ব্যক্তিদের স্পষ্ট বার্তা শোনা যাচ্ছে যে, তাঁরা তাঁদের দেশে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সরকারী তরফে লড়াই জারি রেখেছেন৷ 

কিন্তু এই পরিবর্তন প্রায়শ:ই বাড়ছে, এবং প্রতিশু্রতিগুলি সর্বদা কার্যকরী করা যাচ্ছে না৷ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা সত্ত্ব্বেও, শেখ হাসিনা আইন পাস করানোর প্রস্তাব নিয়েছেন যে মেয়েদের বিয়ের বর্তমান বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হতে পারে৷ এপ্রিল ২০১৫-তে মালাউই দেশে বিয়ের বয়স নূ্যনতম ১৮ করার আইন গ্রহণ করা হয়েছে, অবশ্য এটি সংবিধানের ধারার উপরে যাবে নাা, যা ১৫ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করছে না কিন্তু ১৫ থেকে ১৮ বছরের মেয়েদের বিয়ে পিতামাতার সম্মতিতে অনুমোদন করছে৷ 

আনর্্তজাতিক দাতাগণ, সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের এজেন্সীগুলি এবং নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলি সহ সারা বিশ্বজুড়ে ৫০০টির বেশী সংস্থা নিয়ে গঠিত গার্লস নট ব্রাইডস নামক একটি সংস্থাও এই কারণের জন্য মিছিল সংগঠিত করেছে৷ এই চ্যালেঞ্জগুলি দুরূহ৷ বাল্য বিবাহ - যার মূল কারণ দারিদ্রতা এবং এর শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে যা মূল্যহীন এবং মহিলাদের উপর নির্বিচারে প্রয়োগ করা হয় - এটি অদৃশ্য হয়ে যাবে না, যদি না সম্মিলিতভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়, তা নাহলে এই জ্বলন্ত সমস্যা কোনোভাবেই বিলীন হবে না৷ 

একটি সাম্প্রতিক উন্নয়ন আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে: ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউএন সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস গৃহীত হয়েছে, যাতে যে হারে লিঙ্গ বৈষম্য বাড়ছে তাতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ রদ করার মূল লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ 

এই লক্ষ্যমাত্রাগুলি পূরণের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন আছে, যেগুলির মাধ্যমে এককভাবে মহিলাদের অন্যান্য অধিকারগুলি অর্জন করা সমস্যাজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে: বহু বছরের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং উত্‍সগুলি; কিশোরীদের যৌনতার ইচ্ছা স্বীকার করে নেওয়া এবং এই সংক্রান্ততথ্যাবলী এবং বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও অর্থনৈতিক বিকাশ সহ বিভিন্ন দিকগুলির মধ্যে সত্যিকারের সামঞ্জস্য নিয়ে আসা প্রয়োজন৷ 

বাল্য বিবাহের মূল কারণগুলির মোকাবেলা করা

আমি বিয়েতে প্রচুর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি৷ আমার বয়স কম ছিল এবং আমি জানতাম না যে, স্ত্রী কেমন করে হতে হয়৷ আমি গর্ভবতী ছিলাম তা সত্ত্বেও আমাকে আমার স্বামীর দেখাশুনা করতে হত, বাড়ির কাজ করতে হত, শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের দেখাশুনা করতে হত, এবং খামারে কাজ করতে হতো৷ আমার সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল যখন আমি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলাম; আমাকে এই সমস্ত কাজ করতে হত এবং আমার গর্ভাবস্থার খেয়াল রাখতে হত আর সেইসময়ে আমার বয়সও খুব কম ছিল৷ 
-এলিনা ভি., ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়, মালাউই 

বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বাল্য বিবাহের কারণগুলি ভিন্ন ভিন্ন হয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে মেয়েদের যৌনতার বিষয়ে এটি কেন্দ্রীভূত হয়৷ 


কয়েকটি দেশে, যেমন তানজানিয়াতে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অনেক মেয়েদের সাক্ষাতকার নিয়েছে, যারা জানিয়েছে যে তারা গর্ভবতী হয়ে পড়ার পরে তাদেরকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে৷ অন্যান্য দেশগুলিতে যেমন বাংলাদেশে দেখা গেছে যে, মেয়েদের বাবা-মায়েরা তাদের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করতে বাধ্য হয়েছে যাতে তারা যৌন লাঞ্ছিত না হয়, কারোর প্রেমে না পড়ে যায় বা বিয়ের আগে ওরা যেন কোনোভাবেই কারোর প্রেমে না পড়তে পারে৷ 

অধিকাংশ মেয়েদের ক্ষেত্রেই একটি বিষয় সাধারণ যে, তারা অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, তারা কোনো সহযোগিতা পায় না বা খুব কম স্বাধীনতা পায় এবং সামাজিক নিয়মকানুন ওদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় - ওদেরকে বোঝানো হয় যে, ওদের বাবা-মায়ের পছন্দ মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ 

বহু জায়গায় লিঙ্গের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় যার মধ্যে অনর্্তভুক্ত চিরাচরিত প্রথাগুলি, যেখানে বলা হচ্ছে যে একটি মেয়ে তার স্বামীর পরিবারে চলে যাবে অন্যদিকে একটি ছেলে তার নিজের পরিবারের সঙ্গেই থাকবে এবং বাবা-মাকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করবে, এবং এ থেকেই ধারণা জন্মায় যে, মেয়েরা হলো একেকটি আর্থিক বোঝা আর ছেলেরা হলো দীর্ঘসময়ের জন্য করা একটি লগি্ন৷ 

সঠিকমানের শিক্ষার অভাবও আরেকটি বিবেচনাধীন বিষয়৷ যখন দেখা যায় যে বিদ্যালয় বাড়ি থেকে অনেক দূরে, অনেক খরচ সাপেক্ষ, যাতায়াত করা বিপদজনক, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার থেকে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয় বা তারা নিজেরাই স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেয় এবং এজন্য তাদের বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী বেড়ে যায়৷ 

যখন দেখা যায় যে, স্কুলে হয়ত যাওয়া যাচ্ছে, তখন শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং নিম্নমানের শিক্ষা পাওয়ার জন্য, মেয়ে বা তার বাবা-মায়েরা মনে করতে পারেন যে, এতে হয় তাদের খরচ হচ্ছে বা সময় নষ্ট হচ্ছে৷ মেয়েদেরকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, মনে করা হয় যে ওদেরকে দিয়ে অনেক কাজ করানো যাবে সেটি হয়ত বা তাদেরকে বাড়ির কাজ বা অল্প বয়স থেকেই মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক বানিয়ে দেওয়া হয়৷ এই একই অসুবিধাগুলির কারণে তারা না পায় বিদ্যালয় আধিকারিকদের কাছ থেকে সহযোগিতা, না পায় তার শ্বশুরবাড়ি বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের কাছ থেকে উত্‍সাহ যার কারণে মেয়েরা বিয়ের পরে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে না৷ 

অনেক মেয়েই এবং তাদের পরিবারগুলি দারিদ্রতা এবং পণপ্রথাকে বিয়ের আরেকটি কারণ বলে উল্লেখ করেছেন৷ "খাওয়ার আরেকটি মুখ" এই চাপ কিছু বাবা-মা তাদের মেয়েদের আরো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কারণ বলে জানিয়েছেন৷ বাংলাদেশে যেখানে মেয়ের বাবাকে ছেলেকে পণ দিতে হয়, সূতরাং মেয়ে যত কমবয়সী হবে পণ তত কম দিতে হবে - যার অর্থ হলো সেই দরিদ্র পরিবার বিশ্বাস করে যে, যদি তারা তাদের মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে না পারে তাহলে তারা তাদের সব মেয়েদের বিয়ে দিতে পারবে না৷ 

এর বিপরীতে, দক্ষিণ সুদানে, মেয়ের বাড়িতে পাত্রপক্ষের বাড়ি থেকে পণ দেওয়া হয় তা হয়ত গবাদি পশুর আকারে যা একটি গুরম্নত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ বা নগদ অর্থ৷ উদাহরণস্বরূপ, বোর কাউন্টির আয়েন সি জানান যে "আমার স্বামী আমার জন্য পণ হিসাবে ৭৫টি গরু দিয়েছে৷" বিয়ের আগে আমরা কখনও কথা বলিনি বা দেখাও হয়নি আমাদের৷ যখন আমি বিয়ের বিষয়ে জানলাম, আমার এই সম্বন্ধে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে গেলো৷ আমি আমার বাবাকে বললাম, "আমি ঐ লোকটির কাছে আর ফিরে যেতে চাই না৷" উনি বললেন, "ঐ লোকটি যে গরুগুলি দিয়েছে সেগুলিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি সূতরাং তোমাকে ওকে বিয়ে 
করতেই হবে৷" 

অধিকাংশ মেয়েদেরই যৌনতা এবং প্রজনন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ে দুঃখজনকভাবে খুব অল্পই ধারণা থাকে - কিভাবে একজন গর্ভবতী হতে পারে, বিশ্বস্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যৌনতার মাধ্যমে যেসকল সংক্রমণ ছড়ায় সেগুলি কিভাবে প্রতিরোধ করতে হয়, শিশুর যত্ন কিভাবে নিতে হয় বা জরুরীকালীন ধাত্রী পরিচর্যা৷ 

এর ফলে, বাল্য বিবাহের সঙ্গে দারুণভাবে জড়িত থাকে একটি বিষয় - যেটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ - শিশুর জন্ম দেওয়া৷ এর ফলাফল প্রাণঘাতী হতে পারে: গর্ভাবস্থায় ও শিশুর জন্মের সময়ে হওয়া জটিলতা হলো সারা বিশ্বজুড়ে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মৃতু্যর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ৷ অন্য ক্ষেত্রে, প্রসবের সময়ে অপরিণত শরীরে প্রসবজনিত যে চাপ পড়ে তার কারণে অবস্টেট্রিক ফিসচুলা হতে পাওে, যার কারণে মেয়েদের যোনি ও পায়ুর মধ্যবতর্ী অংশ ছিঁড়ে যেতে পারে যার ফলে সর্বদা প্রস্রাব ও মল বেরিয়ে আসে৷ যে সকল মেয়েরা এই অবস্থায় ভুগতে থাকে তারা প্রায়শ:ই সমাজচ্যুত হয় এবং পরিবার ও তাদের সম্প্রদায় থেকে 
নির্বাসিত হয়৷ 

২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নতুনভাবে এইচআইভি (ঐওঠ) সংক্রমিত হওয়ার ঘটনায় ৭৪ শতাংশই মেয়ে, যাদের অধিকাংশেরই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এবং সন্তানধারণের চাপের কারণে কন্ডোমের ব্যবহারেও ঘাটতি দেখা গেছে৷ 

বিয়ের আরেকটি ঝুঁকি হলো পারিবারিক লাঞ্ছনা যা মেয়েটির স্বামী বা তার শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে আসে, যে লাঞ্ছনাগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত মানসিক, শারীরিক লাঞ্ছনা, এবং যৌন লাঞ্ছনা যেমন স্বামীর স্ত্রীকে ধর্ষণ৷ সমস্ত বাল্য বিবাহগুলিকে পারিবারিক লাঞ্ছনা দ্বারা চিহ্নিত করা যাবে না, এই বিপদ আরো বাড়তে থাকে যখন দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের অনেক তফাত থাকে৷ 

অধিকাংশ দেশেই স্বামীর দ্বারা স্ত্রীকে ধর্ষণ করাকে অপরাধ বলে মনে করা হয় না, এবং যখন এটি অপরাধ বলে গণ্যও করা হয়, কিন্তু কনের বয়স অল্প হওয়ার জন্য সে আইনী সাহায্য চাইতেও পারে না৷ এবং সাধারণভাবে, মেয়েদের অধিকারের বিষয়ে খুব অল্প তথ্য জানা থাকা, আইনী সহযোগিতা ও জরুরীকালীন আশ্রয় এদুটি পরিষেবার সঠিক ব্যবস্থা না থাকা, নির্বিচারে বিবাহ বিচ্ছেদ করা, উত্তরাধিকার, অভিভাবকত্বের আইন, তাদের নিজেদের পরিবার থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া ইত্যাদির কার েঅনেকে নির্যাতনের বিয়ের ফাঁদে আটকে যেতে পারে যা থেকে পলায়নের কোনো উপায় থাকে না৷ 

সশস্ত্র সংঘাত মেয়েদের বাল্য বিবাহ ও অন্যান্য কুপ্রথার বিপদকে আরো বাড়িয়ে তোলে৷ উদাহরণস্বরূপ, ইসলামিক স্টেটস (আইসিস নামে পরিচিত) এবং নাইজেরিয়ার বোকো হারাম-এর মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক কৌশল হিসাবে মেয়েদের বলপূর্বক বিবাহে বাধ্য করে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর পক্ষ থেকে ইরাকে ইয়েজিদি মহিলাদের সাক্ষাত্‍কার নেওয়া হয় যাদেরকে ধরে নিয়ে আসার পরে নিদারুন যন্ত্রণা দেওয়া হয়, তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং যৌন ক্রীতদাসী হিসেবে তাদেরকে বেচাকেনা করা হয়৷ একজন মহিলা যিনি পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি জানান যে, তাদের ৬০ জনের একটি দলকে বিয়ের জন্য একটি হল ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আইসিস যোদ্ধারা ওদেরকে জানায় যে, "ওরা যেন ওদের আত্মীয়দের কথা ভুলে যায়, এখন থেকে ওদেরকে বিয়ে করতে হবে এবং ওদেরই সন্তান ধারণ করতে হবে৷" 

পরিবেশগত একটা ভূমিকা এতে গুরুত্বপূর্ণ৷ দরিদ্র পরিবারের লোকজন যেখানে বসবাস করে সেই অঞ্চলগুলি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে যেমন বাংলাদেশে তারা সর্বদা নিজেদেরকে অসুরক্ষিত মনে করে যার কারণে তারা তাদের মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে বাধ্য হয়৷ উদাহরণস্বরূপ, বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়া বা জমির ক্ষতি হওয়ার ফলে ঐ পরিবারটি আরো দারিদ্রতায় পতিত হয় এবং বাবা-মায়েদের বক্তব্য হলো যে, যে কোন সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসতেই পারে বা অনুমান করে যে এরকম ঘটনা ঘটতেই পাওে, সূতরাং তাদেরকে তাদের মেয়েদের বিয়ে তাড়াতাড়ি দিয়ে 
দিতে হবে৷ 

সামনের দিকে তাকাতে হবে 

যখন বাল্য বিবাহের কারণে হওয়া ক্ষতিগুলি চরম আকার ধারণ করেছে, তখন এই অভ্যাস বন্ধ করার সুবিধাগুলি রূপান্তরকারী ও সুুদূরপ্রসারী৷ বহুক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকার দান ও ক্ষমতায়ন যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কাজ, নিষ্ঠুরতা থেকে স্বাধীনতা, এবং স্বাভাবিক জনজীবনে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদির দিকে এগিয়ে চলা বাল্য বিবাহ বন্ধ করার একটি কৌশলগত উপায় হয়ে থাকে৷ 

কিন্তু বাল্য বিবাহ বিষয়টি জটিল এবং সারা বিশ্বে এটি বিভিন্নভাবে প্রচলিত আছে৷ ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা নিধর্ারণ করে সরকারের পক্ষ থেকে সাসটেনেবেল ডেভলপমেন্ট গোলস অর্জন করার দায়বদ্ধতার জন্যএকটি সুসংহত এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে যেটি বিভিন্ন অঞ্চলের ও ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে উপযোগী হবে৷ 

আর যখন দেখা যাচ্ছে যে, বাল্য বিবাহ কয়েকটি অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে তখন অন্যদিকে এটি আবার বাড়তেও থাকছে৷ উদাহরণস্বরূপ, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর তরফ থেকে জর্ডনে সিরিয়ান উদ্বাস্তুদের মধ্যে বাল্য বিবাহের সংখ্যা বাড়ার কথা জানিয়েছেন৷ 

মূল বিষয়টি হলো সংহত জাতীয় আইনী পরিকাঠামো অবলম্বন এবং প্রয়োগ করা যা আনর্্তজাতিক মানবাধিকার বিধিগুলি তুলে ধরবে৷ এর মধ্যে অন্তভর্ুক্ত বিবাহের নূ্যনতম বয়স ১৮ করা, বিভিন্ন আইন এড়ানোর উপায়গুলি এড়িয়ে যাওয়া যেমন পিতামাতার সম্মতি ব্যতিক্রমী করা, স্বামীস্ত্রী উভয়েরই যে সম্পূর্ণ সম্মতিজনিত আইন প্রয়োজন সেগুলি নিশ্চিত করা, বিবাহের শংসাপত্র প্রদানের পূর্বে বয়সের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা, এবং বিয়ে করতে অস্বীকার করলে বা কোনো ক্ষতি করার ভয় দেখালে সেক্ষেত্রে তার জরিমানার ব্যবস্থা করা৷ 

সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই সুরক্ষাকবচগুলি ধর্ম বা স্থানীয় আইন বা প্রথা দ্বারা চেপে রাখা যাবে না এবং নিয়মিতভাবে এর সঙ্গে সম্প্রদায়ের ও ধমর্ীয় নেতাদের এর মধ্যে অন্তভর্ুক্ত করতে হবে৷ 

কোন ধরণের হস্তক্ষেপ কাজ করে এবং কার জন্য করে সেটাই প্রধান বিষয়৷ কেবলমাত্র কয়েকটি দ্রত বর্ধনশীল হস্তক্ষেপ যথার্থভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে বা মূল্যায়ন করা হয়েছে এই বিষয়টি জানতে যে, কোন কোন ক্ষেত্রগুলি বাড়াতে হবে বা প্রতিরূপ তৈরী করতে হবে৷ ২০১৩ সালের একটি মূল্যায়নে, ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইন্ট্যারন্যাশানাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন ওমেন দেখিয়েছে যে, ২৫ শতাংশের বেশী বাল্যবিবাহের প্রকোপ থাকা ৫১টি দেশের মধ্যে মাত্র ১১টি দেশ এর বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্যোগগুলির 
মূল্যায়ন করেছে৷ 

১৫০টির মধ্যে ২৩টি কার্যক্রম মূল্যায়ন কওে, তা কার্যকরীভাবে সহযোগিতামূলক তার প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ ১) তথ্যাবলী এবং সহযোগী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়ন ২) গুণগত শিক্ষালাভে মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করা, ৩) বাল্যবিবাহ বিষয়ে মেয়েদের বাবা-মায়েদের এবং সমাজের সদস্যদের শিক্ষিত করা ও এ বিষয়ে তাদেরকে নিয়োজিত রাখা ৪) মেয়েদের পরিবারবর্গকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দান করা ও বিভিন্নভাবে সাহায্য করা এবং ৫) বিয়ের জন্য নূ্যনতম বয়স নির্ধারণ করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আইনী পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা ও সেটিকে প্রয়োগ করা৷ 

একটি আন্তর্জাতিক অ্যাকশন-রিসার্চ সংস্থা পপুলেশন কাউন্সিল একটি বহু বর্ষব্যাপী, পরিশ্রমসাধ্য অধ্যয়ন পরিচালনা করে যেখানে দেখা যায় যে, তানজানিয়া ও ইথিওপিয়াতে মেয়েদের বিয়ে দিতে নিরূত্‍সাহিত করা ও তাদের স্কুলে পাঠানোর জন্য, বিভিন্ন পরিবারগুলিকে গবাদি পশু প্রদানের মত আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ফলে সুনির্দিষ্টভাবে ১৫ থেকে ১৭ বছরের মেয়েদের (যথাক্রমে দুই-তৃতীয়াংশ ও ৫০ শতাংশ) বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় যে দেশগুলিতে এই কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়নি, সেখানকার তুলনায় এখানে বিয়ের সংখ্যা অনেক কম৷ 

ইথিওপিয়াতে, কয়েকটি কমিউনিটিতে ১২ থেকে ১৪ বছরের মেয়েদের স্কুল থেকে বিভিন্ন জিনিস বিনামূল্যে দেওয়ার কারণে সেখানে মেয়েদের বিয়ের সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় ৯৪% শতাংশ কমে গিয়েছে৷ যে সকল কমিউনিটিতে মেয়েদের শিক্ষাদান এবং বাল্যবিবাহের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকগুলি শীর্ষক বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করতে পেরেছে সেখানে বাল্যবিবাহের সংখ্যা অনেক কমে গেছে৷ 

একটি বিশেষ এবং শক্তিশালী বার্তা বিভিন্ন কমিউনিটিতে এবং বাবা-মায়েদের মধ্যে সাড়া ফেলতে পেরেছে যে অল্প বয়সে মাতৃত্বের কত বিপদ৷ পাশাপাশি, প্রজনন এবং যৌন নির্যাতন সংক্রানত্ম বিভিন্ন তথ্যাবলী কিশোর-কিশোরীরা জানতে পারলে তারা তাদের শরীর সম্বন্ধে সচেতন হবে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে পারবে এবং অবাঞ্ছিত গর্ভাধারণ এড়িয়ে যেতে পারবে৷ 

অবশ্য, যেখানে সরকারের দিক থেকে বিভিন্ন হস্তক্ষেপগুলি প্রচলন করায় খুব কম সমস্যা হচ্ছে যা সাধারণভাবে ব্যাপকতর জনগণের সহযোগিতা আদায় করছে যেমন স্কুল থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করা, কিন্তু অনেকেই এইধরণের কর্মসূচী যা কোন প্রতিআক্রমণকে ত্বরাণ্বিত করতে পারে সেগুলি চালু করতে অনিচ্ছা প্রদর্শন করছে৷ তাদের পক্ষ থেকে স্কুলে স্কুলে ব্যাপকতরভাবে যৌন শিক্ষা চালু করার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বা কমিউনিটির অন্যান্য যান্ত্রিকতার মাধ্যমেও এড়িয়ে যাচ্ছে এবং নিশ্চিত করছে যে, কিশোরকিশোরীরা ও তার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা গর্ভাধান বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য জানবে এবং সুরক্ষিত ও আইনসঙ্গত গর্ভপাত সহ স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবে৷ 

কিশোরী মেয়েদের যৌনতা এবং তাদের অবগতিতে তাদের শরীর সম্বন্ধে অধিকার, তাদের সম্পর্ক, এবং তাদের যৌন কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে স্বীকার না করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার উদ্যোগ সফল হতে পারে না৷ 

সরকার ও বিভিন্ন দাতাগণের পক্ষ থেকে মিছিল সংগঠিত করতে হবে যে একজন ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠাতে হবে৷ বিভিন্ন দেশগুলি যেমন কানাডা, হল্যান্ড, ইউনাইটেড কিংডম, এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এই বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য সর্বদা এগিয়ে এসেছে৷ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো যে, তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে কি না যে বাল্য বিবাহে হস্তক্ষেপ মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও অসহায় কমিউনিটি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো প্রসঙ্গে অন্যান্য উদ্যোগগুলি থেকে এককভাবে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়৷ 

সরকারকে, দাতাগণ বা বলবতকারী যেকোন ভূমিকাতেই হোক না কেন, কয়েকটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, অবশ্য যদি তারা এবিষয়ে সত্যিকারের প্রগতি চায়৷ ওদের শিক্ষামূলক কর্মসূচীগুলি কি বিবাহিত মেয়েদেরকে বিশেষভাবে অনর্্তভুক্ত করবে? লিঙ্গ-ভিত্তিক নিষ্ঠুরতার উপর জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান এবং "মহিলা, শান্তিও সুরক্ষা"-এর মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ/প্রচেষ্টা আছে? ওদের পুলিস ট্রেনিং কর্মসূচীতে লিঙ্গ-ভিত্তিক নিষ্ঠুরতার মধ্যে কি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর বিভিন্ন পরিকল্পিত প্রক্রিয়াগুলি অনর্্তভুক্ত যেমন স্থানীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যিনি বিয়ের বয়স না হওয়া মেয়েদের বিবাহের শংসাপত্রে স্বাক্ষর করেন? 

এইধরণের সমন্বয়-সাধন অত্যন্ত জরুরী এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য যে, যখন সম্পদ ও কর্মসূচী বিলি করা হয় তখন যেন কোনো জরুরী সুযোগ হাতছাড়া না হয় যা এটিকে প্রসারিত করার জন্য উত্‍সগর্ীকৃত৷ 
সাসটেনেবেল ডেভলপমেন্ট গোলস-এর আলোচ্য বিষয়গুলি৷ 

বাল্যবিবাহ বন্ধ করার উদ্যোগের অর্থ হলো বিভিন্ন দাতাগণ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে এই প্রথা সমাপ্ত করার আনত্মর্জাতিক নিয়মের অধীন বিভিন্ন বাধ্যবাধকতাগুলি পূরণ করতে পারে৷ আনর্্তজাতিক মানবাধিকার চুক্তির প্রধান বিষয়ের মধ্যে অন্তভর্ুক্ত ইন্ট্যারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস, কনভেনশন অন দি এলিমিনেশন অফ অল ফর্মস অফ ডিসক্রিমিনেশন এগেন্স্ট ওমেন ও দি কনভেনশন অন দি রাইটস অফ দি চাইল্ড৷ বিভিন্ন কমিউনিটির স্তর থেকে উদ্যোগ গ্রহণের, সরকারী সহযোগিতা, আইন প্রণয়ন, জাতীয়-স্তরে উদ্যোগের ক্রমবর্ধমান কার্যকারিতার প্রধান দিকগুলি হলো পরিমাপ ও সহনশীলতা৷ 

প্রায়শ:ই, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি এবং বিভিন্ন দাতাগণ উদ্ভাবনমূলক কর্মসূচীগুলিকে সহযোহিতা কওে, কিন্তু স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাগুলির আধিকারিকেরা বিভিন্নভাবে এই বাল্যবিবাহকে উত্‍সাহিত করে বা স্বেচ্ছায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এই প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগটিকে দুর্বল করে (উদাহরণস্বরূপ, উত্‍কোচের বিনিময়ে বয়সের বা বিবাহের শংসাপত্রে বয়স পরিবর্তন করে) অথবা স্থানীয় পুলিশ বাল্যবিবাহ যে একটি অপরাধ সেবিষয়ে আইন প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়৷ 

একইভাবে, জটিল সুযোগগুলি হাতছাড়া হয়ে যায় যখন দেখা যায় যে, সরকারী স্বাস্থ্যকমর্ীরা যৌনতা ও গর্ভনিরোধ বিষয়ে কোনো আলোচনা করে না বা সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ও অধ্যক্ষেরা বাধ্য হন না এবিষয়ে খোঁজ নিতে যে, মেয়েরা কেন বিবাহের কারণে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছে৷ 

বাল্য বিবাহ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর গবেষণায় মনোযোগ আকর্ষণকারী অন্যতম বিষয়টি যা লক্ষ্য করা গেছে সেটি হলো, কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া কোনো মেয়েই তার মেয়ের বিয়ে তার মতো অল্প বয়সে দিতে চায় না৷ 

দক্ষিণ নেপালের কল্পনা টি, যাঁর সাক্ষাতকারটি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিয়েছিল, সেখানে জানা যাচ্ছে যে তিনি তাঁর বয়স কত নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না, কিন্তু এটুকু মনে আছে যে তাঁর তিনটি বা চারটি ঋতুস্রাব হয়ে যাওয়ার পরেই বিয়ে হয়ে যায় এবং তাঁর এখন তিনটি মেয়ে যাদের বয়স পঁচ বছরের কম৷ তিনি কখনও স্কুলে যান নি৷ 

তিনি জানান, "যখনই আমরা বড় হলাম এবং কাজ বুঝতে শিখলাম তখন থেকে আমার বোনকে এবং আমাকে অর্থের জন্য জমির মালিকের জমিতে কাজ করতে হতো৷" "আমাকে বিয়ে করতে হয়েছিল কেন না আমার বাবা-মা তাই চেয়েছিলেন৷ আমি কিন্তু আমার মেয়ের জন্য এমনটা চাইবো না৷ আমি অশিক্ষিত এবং আমি জানি না যে এই পৃথিবীতে কেমনভাবে সমস্ত কাজ হয়ে চলেছে... আমি অর্থ গুণতে পারি না৷ আমি চাই আমার মেয়ে শিক্ষিত হোক এবং এখন আমার কাছে যে পরিবেশ পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক উন্নত জীবন যাপন করুক৷" 

সাসটেনেবেল ডেভলপমেন্ট গোলস-এর লক্ষ্য বাল্য বিবাহ বন্ধ করা যা কল্পনা টি-এর মেয়েদের তার মায়ের সুযোগের তুলনায় অনেক বেশী সুযোগ ধরে রাখবে৷ কিন্তু প্রচুর পরিমান সমন্বয়সাধন, সামাজিক সংবেদনশীল বিষয়গুলির মোকাবিলা করার সদিচ্ছা, প্রতিশ্রুতি পালন এবং সম্পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন তবেই এই লক্ষ্য থেকে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে - যা কল্পনা টি-র গ্রামের মেয়েদের বা সারা বিশ্বের সর্বত্র মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে৷