নেপালে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬০০ জনেরও বেশী হিজড়া বেসামরিক চাকরী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। নেপালে এলজিবিটি অধিকার কর্মীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা এই 'পরিচয় ভিত্তিক আইনি তৃতীয় লিঙ্গ কলাম' হিজড়াদের অধিকার বাস্তবায়নের দিকে একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

A reveller gets ready to take part in a LGBT pride parade to mark Gaijatra Festival, also known as the festival of cows, in Kathmandu, Nepal August 30, 2015.

© 2017 Reuters

যদিও চাকরীতে হিজড়ারা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হন এবং বেসরকারি  চাকরীতে তাদের নিয়োগের সংখ্যা এখনও অজানা।

নেপাল ২০০৭ সালে তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয়, যখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বলা হয় যে কোনও ব্যক্তিকে কেবলমাত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে হবেনা, আইনগতভাবে তার লৈঙ্গিক পরিচয় তার সে তার নিজস্ব অনুভূতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে পারবে।

তখন থেকে অধিকার কর্মীরা নাগরিকত্ব নথি, গন শৌচাগার এমনকি সরকারি আদমশুমারিতেও সফলভাবে তৃতীয় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করতে লড়াই করে আসছেন। ২০১৫ সাল থেকে সরকার তৃতীয় লিঙ্গের পাসপোর্ট দিতে শুরু করে। সংবিধানে হিজড়াদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং 'সুবিধাবঞ্চিত' হিসেবে তাদের রাষ্ট্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

কিন্তু উপযুক্ত কাগজপত্রের মাধ্যমে আইনগত অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনও অনেক নেপালি হিজড়াদের কাজ খুঁজে পেতে লড়াই করে যেতে হচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে, নেপালের বেসামরিক চাকরীর নীতিমালা বাধ্যতামূলক করেছে যে কিছু চাকরী নির্দিষ্ট শ্রেণী, জাতিগত সংখ্যালঘু, এবং নারীর জন্য সংরক্ষিত - কিন্তু কখনোই হিজড়াদের জন্য নয়। সুতরাং ২০১৫ সালে বেসামরিক চাকরীর আবেদনপত্রে তৃতীয় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এ প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের এক শুভসংকেত।

আশেপাশের অন্যান্য দেশ যেমন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এখন একইভাবে দুটি লিঙ্গের বাইরে আইনগতভাবে তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয়। আইনি ঘোষণাপত্র অনেক সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন হয় খুব ধীরে ধীরে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বাংলাদেশ ২০১৪ সালে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু তাদের সরকারি চাকরি প্রদান করার জন্য এক কর্মসূচি পরবর্তীতে তাদের জন্য অবমাননা আর অপমানজনক অভিজ্ঞতা বয়ে আনে।

নেপালের আইন আর সেই সঙ্গে বাস্তবমুখী সামাজিক পরিবর্তনের নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। হিজড়াদের মূলধারার সমাজব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিকরন শুধুমাত্র আদালতে মামলা ও আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয় বরং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্জিত হবে।